রমজান মাসের ফজিলত - রমজান মাসের দোয়া সমূহ জেনে নিন

প্রিয় মুসলমান ভাই ও বোন চলে এসেছে রহমতের মাস মাগফিরাতের মাস নাজাতের মাস। আর এই মাসটি হচ্ছে রমজান মাস। আর এই রমজান মাসের ফজিলত এবং রমজান মাসের দোয়া সমূহ গুলো আপনাদের জানানোর জন্য এই আর্টিকেলটি লিখলাম। আশা করি এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়তে পারলে আপনি রমজান মাসের ফজিলত এবং রমজান মাসের দোয়া সমূহ গুলো জানতে পারবেন।

ramadan-Virtues

এছাড়াও এই পোস্টের মধ্যে রমজান মাস নিয়ে যত তথ্য আছে সমস্ত তথ্য এই আর্টিকেল এর মধ্যে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই আর্টিকেলটি বিশেষ করে রমজান মাসের রোজাদার দের জন্য লেখা।ঈমানদার ব্যক্তিরা রোজা রাখার পাশাপাশি রমজান মাসের ফজিলত সম্পর্কে জানতে চাই এমনকি রমজান মাসের দোয়া সমূহ গুলো জেনে রাখতে চাই।

পোস্টের সূচিপত্রঃ রমজান মাসের ফজিলত - রমজান মাসের দোয়া সমূহ

রমজান মাসের ফজিলত

প্রতিটি মুসলমানের কাছে রমজান মাস অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। এই মাসে আল্লাহ তাআলা প্রতিটি মুসলমানের ওপর রহমত বর্ষণ করে। এক বছরের মধ্যে এই মাসটি সবচেয়ে বেশি রহমতের মাস বলা হয়। কারণ এই মাসে আল্লাহ তাআলা তার জান্নাতের আটটি দরজায় খুলে দেয়  এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়।

আরো পড়ুনঃ মেয়েদের ইসলামিক নাম অর্থসহ  

এই রমজান মাসের ফজিলত সম্পর্কে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা রাখা ফরজ করা হয়েছে। যেভাবে তোমাদের আগের লোকদের (নবি-রাসুলের উম্মতের) ওপর ফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পার। ( সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩ )

এছাড়াও তিনি আরো বলেন,  أتاكم رمضان شهر مبارك  অনুবাদঃ তোমাদের দরজায় বরকতময় মাস রমজান এসেছে।’

আশা করি উক্ত তথ্য দ্বারা রমজান মাসের ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। রমজান মাসের আমল গুলো কি কি সেই সম্পর্ক।

রমজান মাসের আমল

মুসলমানদের রমজান মাসের আমল সম্পর্কে বলা হয়েছে । আকাশে রমজানের চাঁদ দেখা গেলে প্রতিটি মুসলমানকে প্রথমত রোজা রাখতে হবে। কারণ এটি ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ। তাই প্রতিটি মুসলমানের ওপর এ রমজান মাসের রোজা ফরজ করা হয়েছে। এই মাসে বেশি বেশি জিকির আজগার করতে হবে। এই মাসে দান সাদকা বেশি বেশি করে করতে হবে। এই রমজান মাসের বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করতে হবে। বেশি বেশি আল্লাহ তাইয়ালা কে ডাকতে হবে। 

এমনকি রোজা রাখার পাশাপাশি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে হবে, কোরআন তেলাওয়াত করতে হবে, তারাবির নামাজ আদায় করতে হবে। এ মাস জুড়ে আপনি যত আল্লাহ তাআলার ইবাদত করবেন আল্লাহ তা'আলা আপনার উপর খুশি হয়ে আপনার উপর তত রহমত নাযিল করবে। রোজা থাকা অবস্থায় এমন কোন কাজ করা যাবে না যে কাজের অছিলায় রোজা ভেঙ্গে যেতে পারে।

রমজান মাসের গুরুত্ব

প্রতিটি মুসলমানের ওপর রমজান মাসের গুরুত্ব অনেক। কারণ এই মাসে সকল মুসলমানকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে। মুসলিম থাকা সত্ত্বেও যারা অমুসলিম কাজ করে বেড়ায় তাদের জন্য এই মাসটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। এই মাসে জীবনের সমস্ত পাপের ক্ষমা পাওয়া যায়। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ তাআলা কখনোই পাপীষ্ঠ কে ফিরিয়ে দেয় না। তাই এই রমজান মাস প্রতিটি মুসলমানের কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। 

রমজান মাসের রোজার গুরুত্ব সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন অবশ্যই রোজা রাখে। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অসুস্থ হয় বা সফরে থাকে, তবে অন্য সময় সে সমান সংখ্যা পূরণ করবে। ( সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৫ )

হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, "আল্লাহর কসম! মুসলমানদের জন্য রমজানের চেয়ে উত্তম কোনো মাস আসেনি এবং মুনাফিকদের জন্য রমজান মাসের চেয়ে অধিক ক্ষতির মাসও আর আসেনি। কেননা মুমিনরা এ মাসে ইবাদতের শক্তি ও পাথেয় সংগ্রহ করে। আর মুনাফিকরা তাতে মানুষের উদাসীনতা ও দোষত্রুটি অন্বেষণ করে। এ মাস মুমিনের জন্য গনিমত আর মুনাফিকের জন্য ক্ষতির কারণ"।              ( 'মুসনাদে আহমদ' হাদিস : ৮৩৬৮ )

উপরোক্ত তথ্য দ্বারা আশা করি রমজান মাসের গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এখন আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করা হবে রমজান মাসের ফজিলত সম্পর্কে হাদিস।

রোজার ফজিলত সম্পর্কে হাদিস

আরবি মাসের বারোটি মাসের মধ্যে এই রমজান মাস সবচেয়ে উত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। আর এই মাস সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত আছে তার মধ্যে কিছু হাদিস আপনার মাঝে উপস্থাপন করা হলো।

আরো পড়ুনঃ রোজা অবস্থায় স্ত্রীর সাথে মিলন করা যাবে কিনা

  • হযরত হুজায়ফা (রা.) বলেন, আমি মহানবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি, "মানুষের পরিবার, ধন-সম্পদ ও প্রতিবেশীর ব্যাপারে ঘটিত বিভিন্ন ফেতনা ও গুনাহর কাফফারা হলো নামাজ, রোজা ও সদকা"। ( বুখারি, হাদিস : ১৮৯৫)
  • হযরত আবু সাইদ (রা.) বলেন,  আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে বলতে সুনেছি , "যে বান্দা আল্লাহর পথে একদিন মাত্র রোজা রাখবে, সেই বান্দাকে আল্লাহ বিনিময়ে জাহান্নাম থেকে ৭০ বছরের পথ পরিমাণ দূরত্বে রাখবেন"। (বুখারি, হাদিস: ২৮৪০)
  • হযরত উসমান বিন আবুল আস বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এরশাদ করেন, "রোজা জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য ঢালস্বরূপ; যেমন যুদ্ধের সময় নিজেকে রক্ষা করার জন্য তোমাদের ঢাল থাকে"। (মুসনাদে আহমাদ, সহিহুল জামিউস সাগির, হাদিস: ৩৮৭৯)
  • আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, হযরত মুহাম্মদ (সা.) এরশাদ করেছেন, "যখন রমজান মাস আসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং দোজখের  দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়"। (বুখারী, মুসলিম)
  • এছাড়াও মহান আল্লাহ তায়ালা আরও বলেছেন, "তোমাদের  মধ্যে যে ব্যক্তি সেই মাসকে পায় সে যেন রোজা রাখে"। ( সূরা বাকারারঃ১৮:)

রমজান মাসের দোয়া সমূহ

রমজান মাসে বেশি বেশি দোয়া সমূহ পাঠ করতে বলা হয়েছে। নিম্নে কিছু দোয়া আসমূহ উল্লেখ করা হলো। রমজান মাসে এই দোয়া গুলো নিয়মিত পাঠ করতে হবে। রমজান মাসের দোয়া সমূহঃ

  • উচ্চারণঃ আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম ইন্নাল্লাহা গাফুরুর রাহিম। অনুবাদঃ মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু। 
  • উচ্চারণঃ আস্তাগফিরুল্লাহাল আজিম আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি। অনুবাদঃ মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি এক ব্যতিত কোনো ইলাহ নেই। 
  • আরবিঃ  أستغفر الله عظيم إن الله غفور رحيم. উচ্চারণঃ আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম ইন্নাল্লাহা গাফুরুর রাহিম। অনুবাদঃ মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।
  • আরবিঃ  اَللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِىْ رَجَبَ وَ شَعْبَانَ وَ بَلِّغْنَا رَمَضَانَ  উচ্চারণঃ "আল্লাহুম্মা বারাকলানা ফি রাজাবা ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লিগনা রামাদান"। অনুবাদঃ "হে আল্লাহ! আপনি রজব ও শাবান মাসকে আমাদের জন্য বরকতময় করুন এবং আমাদেরকে রমজান মাস পর্যন্ত (হায়াত দিন) পৌঁছে দিন"।
  • আরবিঃ اَللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِىْ رَجَبَ وَ شَعْبَانَ وَ بَلِّغْنَا رَمَضَانَ উচ্চারণঃ "আল্লাহুম্মা বারাকলানা ফি রাজাবা ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লিগনা রামাদান"। অনুবাদঃ হে আল্লাহ! আপনি রজব ও শাবান মাসকে আমাদের জন্য বরকতময় করুন এবং আমাদেরকে রমজান মাস পর্যন্ত (হায়াত দিন) পৌঁছে দিন।

সেহরি ও ইফতারের দোয়া অর্থসহ

আপনারা যে পোস্টটি পড়ছেন সেই পোস্টটি হচ্ছে রমজান মাসের ফজিলত এবং রমজান মাসের দোয়ার সমূহ নিয়ে। এর মধ্যে আপনাদের মাঝে এখন সেহরি ও ইফতারের দোয়া অর্থসহ উপস্থাপন  করা হলো। 

সেহরি বা রোজার নিয়ত এর দোয়াঃ

আরবিঃ نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضَا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّل مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْم 

উচ্চারণঃ "নাওয়াইতু আন আছুম্মা গাদাম মিন শাহরি রমাজানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা, ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম"।

অনুবাদঃ "হে আল্লাহ! আগামীকাল পবিত্র রমযান মাসে তোমার পক্ষ হতে ফরয করা রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ (নিয়্যত) করলাম, অতএব তুমি আমার পক্ষ হতে (আমার রোযা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে) কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী"।

আরো পড়ুনঃ মিফতাহুল জান্নাত নামের অর্থ কি

ইফতারের দোয়া সমূহঃ

আরবিঃ اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ وَ اَفْطَرْتُ بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّاحِيْمِيْن

উচ্চারণঃ "আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন"।

অনুবাদঃ "হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিক্বের মাধ্যমে ইফতার করছি"।

উপরোক্ত তথ্য দ্বারা আশা করি সেহরি এবং ইফতারের দোয়া সমূহ জানতে পেরেছেন। 

রোজা ভাঙ্গার কারণ সমূহ

মুসলমান রোজা রাখার পর যে সব কারণে রোজা ভেঙে যায়। সেই সমস্ত কারণগুলো এখন আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করা হলো। রোজা ভাঙ্গার কারণ সমূহঃ

  • কুলি করতে গিয়ে অনিচ্ছায় গলার ভেতর দিয়ে পানি প্রবেশ করলে।
  • প্রসাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে ওষুধ বা খাদ্য জাতীয় কিছু শরীরে মধ্যে প্রবেশ করালে।
  • রোজাদার ব্যক্তিকে জোর করে কিছু খাওয়ালে।
  • রাত এখনো আছে এটা ভেবে সুবেহ সাদেকের পর পানাহার করলে।
  • ইফতারের সময় হয়ে গেছে এটা ভেবে সূর্যাস্তের আগে ইফতার করলে।
  • রোজা থাকা অবস্থায় মুখ ভরে বমি করলে।
  • রোজা থাকা অবস্থায় স্বামী স্ত্রীর দৈহিক মিলন হলে।
  • বৃষ্টির পানি মুখে পড়লে তা খেয়ে ফেললে।
  • শরীরের যে কোন অংশ যেমন নাক বা কান দিয়ে ওষুধ প্রবেশ করালে।
  • দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাদ্য জিহবা দিয়ে টেনে খেয়ে ফেললে।
  • মুখে অল্প বমি আসার পর ইচ্ছাকৃতভাবে খেয়ে ফেললে।

কি কি কারনে রোজা ভঙ্গ হয় আশা করি সমস্ত ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছে বা জানতে পেরেছে।

পবিত্র মাহে রমজানের ফজিলত ও তাৎপর্য

পবিত্র মাহে রমজানের ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে এই রমজান মাস কোরআন নাজিলের মাস। এই পবিত্র মাহে রমজান মাসের ফজিলত অনেক। তা ব্যাখ্যা করে শেষ করা যাবেনা। এক কথায় এই মাসে আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের উপর রহমত ঢেলে দেয়। এই মাসটিকে তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে।রোজার প্রথম দশ দিন কে বলা হয় রহমতের দশ দিন। এবং দ্বিতীয় দশ দিন কে বলা হয় মাগফিরাতের দশ দিন। এবং তৃতীয় দশ দিন কে বলা হয় নাজাতের দশ দিন। 

আর এই ৩০ দিনের মধ্যে আরেক টি রহমত ও বরকতময় রাত আছে  রাত টি হচ্ছে কদরের রাত। সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, সে রজনি উষার আবির্ভাব পর্যন্ত। এছাড়াও এ মাসের আরো অনেক ফজিলত রয়েছে। রমজান মাস দোয়া কবুলের মাস। রমজান মাস জান্নাতের দরজা খুলে দেয়ার মাস এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ করার মাস। রমজান মাস পাপ থেকে ক্ষমা পাওয়ার মাস। রমজান মাস জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের মাস। রমজান মাস ধৈর্য ও সবরের মাস।

রমজানের মূল আরবী শব্দটি হলো রামাদান। রাম্‌দ্‌ অর্থাৎ রা-মিম-দোয়াদ্‌ এই শব্দমূল থেকেই রামাদান শব্দটির উৎপত্তি করা হয়েছে ৷ আরবী ভাষায় এর অনুবাদ হচ্ছে ভীষণ গরম, কঠোর সূর্যের তাপ, তৃষ্ণা এবং গলে যাওয়া ইত্যাদি ৷ হযরত মোহাম্মদ (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রমজান মাসে যেহেতু গুনাহ বা পাপ নষ্ট হয়ে যায় এবং মানুষের সকল গুনাহ গলিয়ে নিঃশেষ হয়ে যায় আর এইজন্যই এই মাসের নাম রমজান ৷ এর অভিধানে বরকত শব্দটির অর্থ করা হয়েছে পূণ্য বা নেয়ামত বৃদ্ধি পাওয়া ৷ আরবী ভাষায় স্থির এবং অব্যাহত ফায়দা বা লাভ অর্থে এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও আমল

রমজান মাসের এই লাইলাতুল কদরের ফজিলত অনেক কারণ এই লাইলাতুল কদরের রাতে কোরআন মাজীদ নাযিল করা হয়। আল্লাহ তাআলা এবং নবীগণ এই রাতকে অনেক প্রাধান্য দিয়েছেন। কারণ এই রাতে ফেরেশতাগণ ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, সে রজনি উষার আবির্ভাব পর্যন্ত। লাইলাতুল কদরের রাতের আমল গুলো হল। সারা রাত জেগে আল্লাহ তাআলা ইবাদত করতে হয়। এ রাত জেগে কোরআন তেলাওয়াত করতে হয়। সমস্ত রাত আল্লাহ তাআলার ধ্যানে জ্ঞানে নিজেকে বিলীন করে দিতে হয়। 

আরো পড়ুনঃ তারাবির নামাজ না পড়লে কি গুনাহ হবে

এই রাতে আল্লাহ তাআলা অনেক ফজিলত ও রহমত নাযিল করেছেন। হাদিসে এসেছেন এই রাতটি  হল বিশ রমজানের পর থেকে বিজোড় সংখ্যার রমজানের দিনগুলো। যেমন ২১-২৩-২৫-২৭-২৯ এ রমজানের রাতগুলোর কথা হাদিসে বর্ণিত করা হয়েছে। তবে অনেক আলেম ও বুজুর্গদের মতে ২৭ রাত্রিতে লাইলাতুল কদর রাতের আশঙ্কা বেশি করেন। 

এই লাইলাতুল কদরের রাতের পঠিত দুয়ার সম্পর্কে হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন , তুমি বলবে- উচ্চারণঃ "আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আ'ফুয়্যুন; তুহিব্বুল আ'ফওয়া; ফা'ফু আ'ন্নী"। অনুবাদঃ "হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন"। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

পোস্ট মন্তব্য

উপরোক্ত পোস্ট দ্বারা আশা করি আপনি আপনার রমজান মাস নিয়ে অজানা তথ্যগুলো জানতে পেরেছেন। এই রমজান মাসের ফজিলত এবং রমজান মাসের দোয়ার সমূহ নিয়ে অনেক তথ্য এই পোষ্টের মধ্যে উপস্থাপন করা হয়েছে। আশা করি এই পোস্টটি পড়ে আপনি অনেক উপকৃত হয়েছেন।এরকম আরো ইসলামিক তথ্য জানতে চাইলে এই ওয়েবসাইটটি আপনি নিয়মিত ভিজিট করতে পারেন। ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
1 জন কমেন্ট করেছেন ইতোমধ্যে
  • Alll Tips IT
    Alll Tips IT ২৪ মার্চ, ২০২৩ এ ২:১৩ PM

    খুব সুন্দর হয়েছে

মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ড্রিম সেন্টার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url